চার দিনের টানা বৃষ্টির পর আকাশে রোদ দেখা দিলেও হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফেরেনি। বরং নতুন বৃষ্টির শঙ্কায় পাকা ও আধাপাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।
রোদ ওঠায় কিষান–কিষানিরা মাঠে নেমে ধান কাটতে শুরু করেছেন। কেউ পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন, কেউ নৌকায় করে ধান হাওরপাড়ে আনছেন, আবার অনেকে আগে কেটে রাখা ধান শুকানোর চেষ্টা করছেন।
তবে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তায় পুরোপুরি স্বস্তি ফিরছে না। কৃষকেরা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় আবার ভারী বৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢল নামতে পারে, এতে বাকি ধান তোলাও ঝুঁকিতে পড়বে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, আকাশে এখনো মেঘ রয়েছে এবং আবার বৃষ্টি নামার সম্ভাবনা আছে। শুক্রবারও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সুনামগঞ্জে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫১ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। জেলার ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন, তবে অতিবৃষ্টি ও ঢলে ক্ষতির কারণে তা পূরণ হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে অনেক হাওরে পানি জমে থাকায় কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হয়নি। ফলে শ্রমিক সংকট ও পানি সমস্যার কারণে হাতে ধান কাটার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষকদের।
গত কয়েক দিনের মাঠপর্যায়ের চিত্রে দেখা গেছে, কৃষকেরা পানিতে নেমে ধান কাটছেন, নৌকায় করে তা হাওরপাড়ে আনছেন এবং ভেজা ধান শুকানোর চেষ্টা করছেন। অনেকের আগেই কাটা ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।
ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে কৃষি বিভাগের সঙ্গে স্থানীয় সংগঠনগুলোর মতভেদ রয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে হাওর আন্দোলনের নেতারা দাবি করছেন, ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি।
সুনামগঞ্জ ছাড়াও কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার বিভিন্ন হাওরেও ধান কাটার কাজ চলছে। তবে সেখানেও নতুন বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে। কিছু এলাকায় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
হাওর বিশেষজ্ঞ ও সংগঠনের নেতারা বলছেন, এবারের বৃষ্টি ও ঢলে কৃষকের বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। আরও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।