ঢাকা

ইসলামে শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম শ্রমকে কখনোই হীন বা অবমাননাকর হিসেবে দেখেনি; বরং এটিকে সম্মানজনক ও পবিত্র উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেছে। হালাল পথে পরিশ্রম করে জীবিকা অর্জনকে ইসলামে উচ্চ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে শ্রমিকরা সমাজ ও সভ্যতার ভিত্তি গড়ে তোলে। অথচ এই পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য অনেক সময় তারা পায় না। নানা ক্ষেত্রে তারা শোষণ, অবহেলা ও আর্থিক সংকটে পড়ে। এমনকি কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত বা প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে, যার ফলে তাদের পরিবার চরম বিপদে পড়ে যায়।

ইসলাম এ বাস্তবতা উপলব্ধি করে শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে বৈষম্য দূর করে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

হাদিসে উল্লেখ আছে, নিজ হাতে উপার্জিত খাবার সবচেয়ে উত্তম। নবী-রাসুলগণ নিজেরাই বিভিন্ন শ্রমমূলক পেশায় নিয়োজিত ছিলেন যা সমাজে শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও রাখালির কাজ করেছেন, যা শ্রমের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

এছাড়া, শ্রমিক বা অধীনস্থদের প্রতি সদাচরণের নির্দেশনা ইসলাম স্পষ্টভাবে দিয়েছে। তাদের খাদ্য, বস্ত্র ও কাজের ক্ষেত্রে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কোনোভাবেই তাদের সামর্থ্যের বাইরে কাজ চাপিয়ে না দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

শ্রমিকের পারিশ্রমিক নির্ধারণ এবং সময়মতো তা পরিশোধ করার বিষয়েও ইসলাম কঠোর। হাদিসে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি শ্রমিকের কাজ নিয়ে তার প্রাপ্য মজুরি পরিশোধ করে না, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন।

বর্তমান বিশ্বে শ্রমিক অধিকার নিয়ে নানা আলোচনা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা উপেক্ষিত হয়। শ্রমিক-মালিক বৈষম্য, বেতন বৈষম্য এবং শোষণের ঘটনা এখনও বিদ্যমান। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও একই চিত্র দেখা যায়। বিপুল জনশক্তি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে অবদান রাখলেও দেশের ভেতরে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে তারা বিভিন্ন সময় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়।

ইসলামের দৃষ্টিতে, শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি নৈতিক ও ধর্মীয় কর্তব্য। তাই ব্যক্তি ও রাষ্ট্র—উভয়েরই উচিত ইসলামের ন্যায়বিচারভিত্তিক নির্দেশনা অনুসরণ করে শ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়ন করা।



কমেন্ট বক্স