নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী |পটুয়াখালী জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন বাউফল ও দুমকী উপজেলার সংযোগস্থল ‘বগা-চরগরবদী’ খেয়াঘাট নিয়ে চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি ক্রয়বিধি (PPR-2008) লঙ্ঘন করে গোপন সমঝোতা এবং রাজস্বের বিশাল অংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামরুল হাসান সোহেলের বিরুদ্ধে। ১৪৩২ বঙ্গাব্দের এই আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় সরকারের প্রায় ৭ লাখ টাকা রাজস্ব তছরুপের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পিপিআর-২০০৮ লঙ্ঘন ও জালিয়াতি
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৪৩২ বঙ্গাব্দে ঘাটের ইজারার জন্য পরপর তিনবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও উচ্চমূল্যের কারণে কোনো ইজারাদার পাওয়া যায়নি। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (PPR-2008) অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে দরপত্রের শর্ত পুনর্মূল্যায়ন করে পুনরায় উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। সিইও কামরুল হাসান সোহেল কোনো প্রকার গণবিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ব্যক্তিগত সমঝোতার মাধ্যমে ঘাটটি ‘খাস কালেকশন’-এর আওতায় পরিচালনার দায়িত্ব দেন।
নাম গোপন ও ছায়া ইজারা
সরকারি নথিতে জেলা পরিষদের অফিস সহকারী সুলতানের নামে ‘খাস কালেকশন’ দেখানো হলেও বাস্তবে ঘাটটি পরিচালনা করেন বাউফল উপজেলা তাঁতীদলের আহ্বায়ক জামাল হোসেন মুন্সী ও তাঁর সহযোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এড়াতে নথিতে কর্মচারীর নাম ব্যবহার করে নেপথ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
২২ লাখ বনাম ১৫ লাখ: ৭ লাখ টাকার গরমিল
রাজস্ব আদায়ের হিসাবে ভয়াবহ অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। ঘাট পরিচালনাকারী জামাল হোসেন মুন্সীর দাবি, তিনি জেলা পরিষদে ২২ লাখ টাকা পরিশোধ করে ঘাটের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, সিইও কামরুল হাসান সোহেল স্বীকার করেছেন যে সমঝোতার মাধ্যমে ঘাট পরিচালনা করা হয়েছে, তবে তাঁর দাবি অনুযায়ী আদায়কৃত রাজস্বের পরিমাণ মাত্র ১৫ লাখ টাকার কিছু বেশি। উভয় পক্ষের বক্তব্যের এই ৭ লাখ টাকার পার্থক্যের কোনো দাপ্তরিক হিসাব পাওয়া যায়নি, যা সরাসরি তছরুপের ইঙ্গিত দেয়।
আইনি ব্যাখ্যা ও প্রশাসনের নীরবতা
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কর্মকাণ্ড Public Procurement Act, 2006 এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি বিশ্বাসভঙ্গ ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অপরাধের আওতায় পড়ে। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ শুরু হলেও গত বছরের এই গুরুতর অনিয়মের বিরুদ্ধে এখনো কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, যা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।এমনকি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দেও একই প্রক্রিয়ার দিকেই হাঁটছে পটুয়াখালী জেলা পরিষদ।
দাবি ও সুপারিশ
স্থানীয় বাসিন্দারা এই দুর্নীতির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের দাবি:
অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আত্মসাৎকৃত ৭ লাখ টাকা পুনরুদ্ধার করতে হবে।
সরকারি সম্পদে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া বজায় রাখতে হবে।