পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বহরের জন্য বড় ধরনের রাডার সহায়তা চুক্তি চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করেই প্রায় ৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারের এই চুক্তি এগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সামরিক বিশ্লেষণভিত্তিক সূত্রগুলো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানি নর্থরপ গ্রুম্যানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই চুক্তিটি মূলত এফ-১৬ বিমানের রাডার সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য। ভারতের আপত্তি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এটিকে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা হিসেবে দেখছে।
চুক্তিটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা কাঠামোর আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেখানে পুরোনো রাডার ব্যবস্থাগুলোর কার্যকারিতা বজায় রাখা এবং সফটওয়্যার ও সিগন্যাল প্রসেসিং উন্নত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও এতে নতুন প্রজন্মের সক্রিয় ইলেকট্রনিক স্ক্যানিং রাডার যোগ করা হয়নি, তবুও বিদ্যমান ব্যবস্থার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের অভিযোগ, এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও ধাপে ধাপে প্রযুক্তিগত উন্নয়নও বাস্তবে পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধ সক্ষমতাকে শক্তিশালী করে, যা আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নেটওয়ার্কভিত্তিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ভারতীয় বিশ্লেষকদের দাবি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, এই চুক্তির উদ্দেশ্য কোনো নতুন আক্রমণাত্মক সক্ষমতা তৈরি করা নয়, বরং পুরোনো বিমান বহরের কার্যকারিতা বজায় রাখা এবং সীমিত পরিসরে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা।
তবে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, পাকিস্তানের এফ-১৬ বহরের যেকোনো আধুনিকায়ন কার্যত আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারে। ২০১৯ সালের সংঘাতের পর থেকেই এই বিষয়ে নয়াদিল্লি একাধিকবার কূটনৈতিক আপত্তি জানিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী নীতির প্রতিফলন—একদিকে ভারতের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণ সহযোগিতা অব্যাহত রাখা।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই চুক্তিকে তাদের বিমানবাহিনীর সক্ষমতা ধরে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, পুরোনো এফ-১৬ বহরকে কার্যকর রাখতে এই প্রযুক্তিগত সহায়তা অপরিহার্য।
নিউজ ডেস্ক