ঢাকা

রাশিয়ার প্রযুক্তিতেই কি মার্কিন বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল ইরান?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানকে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে রাশিয়া গোপন পরিকল্পনা নিয়েছিল বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সাময়িকী The Economist। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো তেহরানকে অত্যাধুনিক ড্রোন, গোয়েন্দা তথ্য এবং সামরিক প্রশিক্ষণ সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তার কারণেই যুদ্ধক্ষেত্রে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে রুশ সহায়তা ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দ্য ইকোনমিস্টের দাবি, রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ প্রস্তুত করা ১০ পৃষ্ঠার একটি গোপন নথিতে ইরানকে ৫ হাজার স্বল্প-পাল্লার ফাইবার-অপটিক ড্রোন সরবরাহের প্রস্তাব ছিল। এসব ড্রোন এমন প্রযুক্তিতে তৈরি, যা সহজে জ্যাম করা সম্ভব নয়।

এছাড়া দীর্ঘ-পাল্লার স্যাটেলাইট-নির্দেশিত ড্রোন সরবরাহের বিষয়ও ওই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব ড্রোন পরিচালনায় ইরানি বাহিনীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়ার কথাও বলা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাশিয়া ইরানকে স্টারলিংক টার্মিনাল-সজ্জিত ড্রোন ব্যবহারের সুযোগ দিতে চেয়েছিল। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনী একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে হামলা চালিয়েছে বলে জানা যায়।

তবে নথিটি ইরানের হাতে পৌঁছেছিল কি না অথবা রাশিয়া বাস্তবে এসব ড্রোন সরবরাহ করেছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ছয় সপ্তাহের মধ্যেই এই পরিকল্পনার খসড়া তৈরি হয়েছিল।

প্রস্তাবনায় ইরানি সেনাদের প্রশিক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রায় ১০ হাজার ইরানি শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে ড্রোন অপারেটর নিয়োগের ধারণাও বিবেচনায় ছিল।

এদিকে চলতি বছরের শুরুতে ইলন মাস্ক ইউক্রেনে ব্যবহৃত বেশ কিছু স্টারলিংক টার্মিনালের কার্যক্রম সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকে এই প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক সামরিক কৌশলে আরও বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার এমন সহায়তা আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এতে পশ্চিমা বিশ্ব ও মস্কোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।



কমেন্ট বক্স