ঢাকা

কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন ও কাতার চ্যারিটির যৌথ উদ্যোগে ১৫৩ শিশুর হৃদরোগ চিকিৎসা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত


জন্মগত হৃদরোগ (Congenital Heart Disease) শিশুদের জন্য এক নীরব ঘাতক। বিশ্বব্যাপী প্রতি হাজারে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন শিশু জন্মগত হৃদরোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বাংলাদেশে এ হার আরও উদ্বেগজনক—প্রতি হাজারে প্রায় ১৮ থেকে ২৫ জন শিশু এ রোগে আক্রান্ত। এসব শিশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের চিকিৎসা বর্তমানে কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই ইন্টারভেনশন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা সম্ভব হলেও চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত বেশি হওয়ায় বহু পরিবার এ ব্যয় বহনে অক্ষম। ফলে প্রতিবছর অসংখ্য শিশু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রাণ হারায়, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় বাংলাদেশের শিশু হৃদরোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত চিকিৎসক  ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ফাউন্ডেশনটি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ২ মে থেকে ৯ মে পর্যন্ত কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে এবং কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশন-এর অর্থায়নে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে একটি বৃহৎ চ্যারিটি কার্ডিয়াক মিশনের আয়োজন করা হয়। এই মিশনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রায় ১০৮ জন জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর হার্টে ডিভাইস স্থাপন ও বিভিন্ন ইন্টারভেনশন সম্পন্ন করা হয়।

এছাড়াও ১৪ জন শিশুকে ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য নির্বাচন করা হয়, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৫ জনের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ৯ জন শিশুর সার্জারি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য, রমজান ২০২৬ উপলক্ষে একই উদ্যোগের আওতায় আরও ৩১ জন জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। সব মিলিয়ে কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন ও কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশন-এর যৌথ উদ্যোগে চলতি বছরে মোট ১৫৩ জন শিশুকে বিনামূল্যে উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
উল্লেখ্য যে এবছর কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল এ, কাতার চ্যারিটির এটি চতুর্থ মিশন 

এই চ্যারিটি মিশনটি সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন এর প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম, এছাড়াও বাংলাদেশ টিমের সহযোগী হিসেবে ছিলেন ডাক্তার আশিক মো: রায়হান চৌধুরী, ডাক্তার প্রিয়াঙ্কা দাস, ক্যাথ ল্যাব চীফ টেকনিশিয়ান মোঃ আনোয়ার হোসেন, কালাম, নায়িম, আশরাফ, শাহ-আলম সহ অনেকে । পাশাপাশি কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশন-এর প্রতিনিধিদল, বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডাক্তার মোঃ নোমান, জর্ডান থেকে ডাক্তার ইয়াদ আল অমৌরি, প্যালেস্টাইন থেকে ডাক্তার হাসান, কাতার থেকে ডাক্তার আব্দুল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন।

মানবিক এই উদ্যোগ বাংলাদেশের শিশু হৃদরোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং অসহায় শিশুদের জন্য নতুন জীবনের আশা তৈরি করেছে।



কমেন্ট বক্স