বরিশাল প্রতিনিধি : নদী আর প্রকৃতির শহর হিসেবে পরিচিত বরিশালে দিন দিন বেড়েই চলেছে মানুষের বিনোদন চাহিদা। কিন্তু সেই তুলনায় নগরীতে মানসম্মত উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্র, পার্ক কিংবা পরিবার নিয়ে ঘোরার মতো পর্যাপ্ত স্থান নেই বলেই অভিযোগ নগরবাসীর। ফলে বিকেল হলেই নগরীর ঐতিহ্যবাহী “ত্রিশ গোডাউন” এলাকায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশেষ করে ছুটির দিন ও সাপ্তাহিক বন্ধে ত্রিশ গোডাউন এলাকায় তরুণ-তরুণী, পরিবার, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নদীর পাড়ে বসে সময় কাটানো, আড্ডা, ছবি তোলা কিংবা খোলা বাতাসে কিছুটা স্বস্তি খুঁজতেই মানুষ ছুটে আসছেন এই এলাকায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকেল গড়াতেই কীর্তনখোলা নদীর পাড়জুড়ে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকেই পরিবার নিয়ে এসেছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠেছেন, আবার কেউ ব্যস্ত মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণে। তবে মানুষের ভিড় বাড়লেও সেখানে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, নিরাপত্তা, পাবলিক টয়লেট কিংবা পরিচ্ছন্ন পরিবেশের অভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়েছে।
নগরীর বাসিন্দা একাধিক ব্যক্তি জানান, বরিশালে ঘোরার মতো জায়গা খুবই সীমিত। শিশুদের নিয়ে সময় কাটানোর জন্য আধুনিক কোনো পার্ক বা বিনোদন কেন্দ্র নেই বললেই চলে। তাই বাধ্য হয়েই মানুষ নদীর পাড় কিংবা ত্রিশ গোডাউন এলাকাকেই বেছে নিচ্ছেন।
এক শিক্ষার্থী বলেন, “বন্ধুদের সঙ্গে একটু খোলা জায়গায় সময় কাটাতে আসি। কিন্তু এখানে মানুষের চাপ এত বেশি যে অনেক সময় দাঁড়ানোর জায়গাও পাওয়া যায় না।”
আরেক অভিভাবক বলেন, “পরিবার নিয়ে বের হলে যাওয়ার মতো ভালো জায়গা নেই। ত্রিশ গোডাউন ছাড়া শহরে বিকল্প খুব কম।”
স্থানীয়দের দাবি, বরিশালকে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বিনোদন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক ওয়াকওয়ে, শিশু পার্ক, উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক চত্বর ও পরিবারবান্ধব বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, বরিশালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নদীকেন্দ্রিক পরিবেশকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় নগর বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। তবে এজন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ।