যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক সংঘাতে জড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব শুধু অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর চাপ সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জীবনেও পড়ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও ঋণের সুদ বাড়ছে। তার দাবি, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
ইরানি কর্মকর্তারা বিশেষভাবে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার বিষয়টি তুলে ধরছেন। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়ে থাকে। সংঘাতের কারণে এই পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করে বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে দেশটি উচ্চ সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে। তার মতে, এ পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তেহরান। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, ভবিষ্যতে শুধুমাত্র সহযোগিতামূলক দেশগুলোর জাহাজকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।