বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বাচ্চুর বিরুদ্ধে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ইউনিয়নের ছয়জন ইউপি সদস্য তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলে সংখ্যা ৭৬৫ জন। তবে অতিরিক্ত ৭১ জনের একটি তালিকা তৈরি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। সরকার জাটকা আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের জন্য প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়। সেই হিসেবে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে প্রতি জেলের জন্য মোট ৮০ কেজি করে চাল নির্ধারণ করা হয়।
এ হিসেবে ৮৩৬ জন জেলের নামে মোট ৬৬ দশমিক ৮৮০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করা হয়। ইউপি সদস্যদের দাবি, প্রকৃত ৭৬৫ জন জেলের মধ্যে ৬১ দশমিক ২০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হলেও অবশিষ্ট ৫ দশমিক ৬৮০ মেট্রিক টন চাল ৭১ জন ভুয়া জেলের নামে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
বুধবার ইউপি সদস্য মো. রেদওয়ান সর্দার, খলিলুর রহমান, পিযুষ কান্তি হাওলাদার, পুলুকেশ হাওলাদার, মনির গাজী এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য মাহামুদা আক্তার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
ইউপি সদস্য মো. রেদওয়ান সর্দার বলেন, “নিবন্ধিত জেলেদের বরাদ্দকৃত চাল থেকে ভুয়া তালিকা দেখিয়ে চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
তবে অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বাচ্চু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “৮৩৬ জন জেলের তালিকা অনুযায়ী চাল উত্তোলন ও বিতরণ করা হয়েছে। আমার মানহানি করতেই মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।”
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক