বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনার তালতলীতে ফুটবল দেখে গরু ভয়ে দৌড়ে পালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে তালতলী ৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। এর আগে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার হরিণখোলা দাখিল মাদ্রাসা মাঠে মারধরের ঘটনা ঘটে।
নিহত কিশোর হজরত আলী (১৪) হরিণখোলা গ্রামের ইদ্রিস খলিফার ছেলে মো. হযরত আলী খলিফা।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে হজরত আলী হরিণখোলা দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ফুটবল খেলছিল। ওই খেলায় হজরত আলী গোলরক্ষক ছিল। খেলা চলাকালীন সময়ে কবিরাজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিম ঘরামীর ছেলে মুছা ঘরামি গরু নিয়ে যাচ্ছিল। ফুটবল গরুর কাছে ছিটকে পড়লে গরুটি ভয় পেয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয় মুছা। একপর্যায়ে মুছা ও তার সহযোগীরা কিশোর হজরত আলীকে মারধর করে। ঘটনার পরপরই শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু টাকার অভাবে তাকে হাসপাতালে নিতে পারেননি মা আছিয়া বেগম।
পরবর্তীতে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চাচা ইউনুস খলিফা ভাইয়ের ছেলেকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হজরত আলী দুপুর ২টার দিকে মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে তালতলী থানায় নিয়ে আসে।
এদিকে ঘটনার পরপরই রহিম ঘরামির ছেলে মুছা ঘরামি ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পলাতক থাকায় অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের মা আছিয়া বেগমের অভিযোগ, সামান্য ঘটনা নিয়ে আমার ছেলেকে মুছা ও তার লোকজন পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
নিহতের চাচা ইউনুস খলিফা বলেন, রহিম ঘরামির ছেলে মুছা ও তার লোকজন মারধর করেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হজরত মারা গেছে। আমি হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি করছি।
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সদ্যসাচী দাশ সানি জানান, হজরত আলীকে বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ বিষয়ে তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। সোমবার ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজ ডেস্ক