ঢাকা

ঢাবি সাংবাদিকদরে ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে গোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির মানববন্ধন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি : মিরর নিউজ ছবি : মিরর নিউজ
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে রাজধানীর শাহবাগ থানার অভ্যন্তরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (গোবিপ্রবিসাস) সদস্যবৃন্দ। এসময়  হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, গণমাধ্যম কর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান তাঁরা। 

রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুর দুইটায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে গোবিপ্রবিসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক ও  এশিয়া পোস্ট এর প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও দৈনিক সংবাদ এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাসেল হোসেন, দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম আশরাফ খাঁন, সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সকালবেলার প্রতিনিধি মোঃ ইসতিয়াক আহম্মদ আসিফ, দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান, প্রচার সম্পাদক ও দৈনিক বাংলার প্রতিনিধি শাকিল আহমেদ, কার্যনির্বাহী সদস্য ও শেয়ারবিজের প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আর রাফি।

গোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সকালবেলা পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মোঃ ইসতিয়াক আহম্মদ আসিফ বলেন, গণমাধ্যম হচ্ছে সমাজের দর্পণ। সমাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম।আমরা দেখেছি, ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে সংকটময় মুহূর্তে  ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা কতটা সাহসিকতার সাথে সত্য তুলে ধরেছেন। নানা চাপ, হুমকি ও ঝুঁকি উপেক্ষা করেও তারা তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করেছেন—যা এই গণঅভ্যুত্থানকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।আমরা মনে করি, এ ধরনের হামলার পেছনে দীর্ঘদিনের একটি অপসংস্কৃতি জড়িত। তা হচ্ছে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামীলীগের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিভিন্ন উপায়ে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিলো। ৫ই আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই ধরণের সংস্কৃতির কবর রচনা করা হয়েছে। এরপরও যারা এইপথে হাঁটতে চাই তাদেরকে আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে সতর্ক করে দিতে চাই। ৫ই আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এই ধরণের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।আমরা, গোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি-এর পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক—তাদের ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এসময় গোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক নয়াদিগন্তের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. নাঈম আশরাফ খাঁন বলেন, গত ২৩ এপ্রিল শাহবাগ থানায় সংবাদ সংগ্রহের সময় ডুজার সদস্যদের উপর ছাত্রদল কর্তৃক বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ জানাতে আমরা একত্রিত হয়েছি। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তারা সত্য তুলে ধরে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে। অথচ সেই সত্য প্রকাশের পথেই যদি তাদের ওপর হামলা চালানো হয়, তাহলে তা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর আঘাত নয়—এটি পুরো গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। এই হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে ভবিষ্যতে যেন সাংবাদিকরা নিরাপদে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

মানববন্ধনের সমাপনী বক্তব্যে গোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক সংবাদ পত্রিকার প্রতিনিধি রাসেল হোসেন বলেন, গত বৃহস্পতিবার শাহবাগ থানায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাংবাদিক সহকর্মী ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের ন্যাক্কারজনক হামলার শিকার হয়েছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করেছিলেন। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি সম্প্রতি ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা করলো। যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি স্বরূপ। আমরা এ ঘটনায় তদন্ত করে সঠিক বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। 

আমরা এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাই। দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা অবিলম্বে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের ওপর জোর দাবি জানাচ্ছি। 

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিগণ।



কমেন্ট বক্স