ঢাকা

মাসে ৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা, তবুও গাড়ি দাবিতে প্রশ্নের মুখে এমপিরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

জাতীয় সংসদের সদস্যরা মাসে ৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা পেলেও তাঁদের জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা করার দাবি ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার সংসদের অধিবেশনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ) সকল এমপির জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করার দাবি জানান। তাঁর বক্তব্যে সমর্থন দেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও। এরপর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনমনে বিতর্কের জন্ম দেয়।

সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, যখন সংসদ সদস্যরা যাতায়াতের জন্য বড় অঙ্কের ভাতা পাচ্ছেন, তখন অতিরিক্তভাবে গাড়ির দাবি কতটা যৌক্তিক।

এর আগে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর সিলেটে এক অনুষ্ঠানে দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেছিলেন, তাঁদের কোনো এমপি শুল্কমুক্ত গাড়ি বা প্লট নেবেন না। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে বিএনপিও সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার গঠনের পর সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন। তবে সংসদ সদস্যদের জন্য যানবাহন ব্যবস্থার বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বলা হয়।

গাড়ির দাবি নিয়ে সমালোচনার মুখে বুধবার সংসদে ব্যাখ্যা দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি শুল্কমুক্ত গাড়ি চাননি; বরং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র, ডিসি বা ইউএনওদের মতো প্রক্রিয়ায় এমপিদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন।

তবে এ ধরনের দাবি সমর্থনযোগ্য নয় বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তাঁর মতে, সংসদ সদস্যরা যখন মাসে ৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা পাচ্ছেন, তখন আলাদা করে গাড়ির দাবি নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সুবিধার পার্থক্য উপেক্ষিত হচ্ছে।

এদিকে, সংসদ সদস্যদের জন্য উপজেলা পর্যায়ে ‘পরিদর্শন কক্ষ’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনা চলছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রতিটি উপজেলা পরিষদে এমপি ও মন্ত্রীদের জন্য এই কক্ষ প্রস্তুত করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এতে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার ওপর সংসদ সদস্যদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে, যা প্রশাসনিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আইন অনুযায়ী, একজন এমপি মাসে ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন ছাড়াও ৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা, সাড়ে ১২ হাজার টাকা নির্বাচনী এলাকা ভাতা, ৫ হাজার টাকা আপ্যায়ন ভাতা, ৭ হাজার ৮০০ টাকা টেলিফোন ভাতা, ১ হাজার ৫০০ টাকা ধোলাই ভাতা ও ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। এসব ভাতা আয়করমুক্ত।

এ ছাড়া অফিস রক্ষণাবেক্ষণে মাসে ১৫ হাজার টাকা, বিভিন্ন সামগ্রী কেনায় ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সংসদ অধিবেশন ও কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য অতিরিক্ত ভাতা, বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা, পাঁচ বছরে একবার শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ, ৫ লাখ টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল এবং ১০ লাখ টাকার বিমা সুবিধাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে বিদ্যমান সুবিধার পরও গাড়ি দাবির যৌক্তিকতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।



কমেন্ট বক্স