ঢাকা

বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজের ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। একই ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরেক শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি, যার সন্ধানে এখনও তল্লাশি চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ জানায়, লিমনকে হত্যার অভিযোগে তার রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে হিলসবরো কাউন্টির লেক ফরেস্ট এলাকায় সহিংসতার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযুক্ত বাসা থেকে বের হতে অস্বীকৃতি জানালে সোয়াট দল মোতায়েন করা হয়। পরে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করেন।

তদন্তে জানা গেছে, আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে চুরি, হামলা ও গৃহস্থালির সহিংসতার মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। এছাড়া ২০২৫ সালেও তার বিরুদ্ধে অনুরূপ অভিযোগ ওঠে।

জামিল লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিভাগে ডক্টরাল গবেষক ছিলেন। অন্যদিকে, নাহিদা বৃষ্টি রাসায়নিক প্রকৌশলের শিক্ষার্থী। তাদের সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল একসঙ্গে দেখা যায়। পরদিন এক পারিবারিক বন্ধু তাদের নিখোঁজের বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।

নিখোঁজ বৃষ্টির সন্ধানে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের মেরিন ও ডাইভ ইউনিট হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতু সংলগ্ন নদীতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।

এদিকে, তদন্ত প্রসঙ্গে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এর সাবেক বিশেষ এজেন্ট ও গবেষক ড. ব্রায়ানা ফক্স বলেন, ঘটনাস্থলের আলামত ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে না। তার মতে, এটি হঠাৎ সৃষ্ট ক্ষোভ বা রাগের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পরিচিতদের মধ্যে সংঘটিত এ ধরনের সহিংস ঘটনায় সাধারণত অর্থনৈতিক বিরোধ, ঈর্ষা বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে তুচ্ছ কারণ থেকেও এমন মারাত্মক ঘটনা ঘটে।

হিলসবরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার বলেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক একটি ঘটনা, যা পুরো সম্প্রদায়কে নাড়িয়ে দিয়েছে।” তিনি আশ্বাস দেন, তদন্তকারী দল নিরলসভাবে কাজ করছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টির সন্ধানে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।




কমেন্ট বক্স